কৃষিতে আধুনিক সেচ পদ্ধতি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ ও কৃষির জন্য বিদ্যমান অনুকূল আবহাওয়ার কারনে কৃষিপণ্যের উৎপাদন সন্তোসজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার সাথে তাল মিলিয়ে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইন্ডাস্ট্রি তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মেীসুমি কৃষিপণ্য প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে। যদি যথাযথ এলাকায় কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করা যেতো, তাহলে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নষ্টের পরিমাণ কমে যেতো, অন্যদিকে কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতো। সেই সাথে সৃষ্টি হতো বেকার যুবক ও গ্রামীন নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন ও বৈচিত্রময় ক্ষেত্র। এতে পল্লীর মানুষের ভাগ্যের অনেকটা ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতো। এ সকল দিক বিবেচনায় নিয়ে একাডেমী প্রায়োগিক গবেষণার অংশ হিসেবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ভেল্যু এ্যাড করণের নিমিত্ত পল্লী উন্নয়ন একাডেমীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারী কর্তৃক উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও গবেষণা কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্যের সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সঠিক মূল্য নিশ্চিতকরণে বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে একাডেমীর সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অার্থিক সহযোগিতায় কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন (এপিএম) ইউনিটি প্রতিষ্ঠা করে।

0002%20upload

যে সব কৃষক মৌসুমে আলু, মরচি, মূলা, টমেটো, বেগুনসহ নানা সবজির সঠিক মূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে যায় তাদের মুখে হাসি ফোটাবার এই আয়োজনে সীমতি সাধ্যের মধ্যে অতি স্বল্প ব্যয়ে ফুড প্রসেসিং প্ল্যান্টও বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কাজে আরডিএ-কে সহযোগিতা দিচ্ছেন একাডেমীর কৃষি প্রকৌশলীগণ ও ফুড ইঞ্জিনিয়ার। আরডিএর কৃষি প্রকৌশলী ও ফুড প্রকৌশলীবৃন্দের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকারের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এর আওতায় প্রায়োগিক গবষেণার সাফল্য মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে নতুন উদ্যেগে ভেল্যু এড টু এগ্রিকালচার কনসেপ্টে স্বল্প পরিসরে স্বয়ংকৃয় ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি বসিয়ে কুটির শিল্পের ন্যায় স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত ফলমূল ও সবজি দিয়ে ‘পল্লী ব্রান্ডে’ তৈরি হচ্ছে সর্ম্পূণ ভেজালমুক্ত ও উন্নত মানসম্পন্ন বিভিন্ন কৃষি পণ্য যা নিম্নরূপঃ

  • দুগ্ধজাত পণ্যঃ দুধ, পল্লী পাস্তুরিত দুধ, পল্লী ঘি ইত্যাদি।
  • প্রক্রিয়াজাত কৃষি পণ্যঃ পল্লী তেঁতুলের চাটনি, পল্লী বরই চাটনি, পল্লী জিনজার চাটনি, পল্লী মাশরুম চাটনি, পল্লী আমের আচার, পল্লী রসুনের আচার, পল্লী টমেটো সস, পল্লী অরেঞ্জ জেলি, পল্লী মধু, পল্লী এনার্জি ফ্লাওয়ার সুইট,  পল্লী সয়াকেক, পল্লী চিনিগুঁড়া চাল ইত্যাদি।
  • মসলা জাতীয় পণ্যঃ পল্লী মরিচ গুঁড়া, পল্লী হলুদ গুঁড়া, পল্লী জিরা গুঁড়া ইত্যাদি।
  • তেল জাতীয় পণ্যঃ পল্লী সরিষার তেল, পল্লী রাইচ ব্রান অয়েল ইত্যাদি।

Sharing is caring!